অবশেষে প্রতারক প্রেমিকের খপ্পরে দীর্ঘ নয় মাস ওই গৃহবধূর ঠাঁই হয় নারায়নগঞ্জের পতিতা পল্লীতে।
সেখান থেকে গত ২০শে জুন কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পান ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে প্রতারক প্রেমিকের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতারনার স্বীকার ওই গৃহবধূ জানান, গত তিন বছর পূর্বে তার সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রবাসী স্বামী কাজল মুন্সীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়ার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত নয় মাস পূর্বে বিয়েসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে আনোয়ার তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় নিয়ে নারী পাচারকারীদের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়া হয়।
এরপর থেকেই তার ঠিকানা হয় নারায়নগঞ্জের পতিতা পল্লীতে। ওই গৃহবধূ আরো জানান, অন্ধকার গলির বদ্ধ ঘরে সর্দারিনীর হুকুমে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সবই মেনে নিতে হয়েছে।
দীর্ঘ ৯ মাস পর কৌশলে সে গত ২০ জুন রাতের আধাঁরে পতিতালয় থেকে পালিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসে। গতকাল শনিবার বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় প্রতারক আনোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে আসার পর সেখানে বসে ওই গৃহবধূ সাংবাদিকদের জানান, তার ৯ মাসের দুঃসহ জীবন যাপনের কথা।
পতিতালয়ে প্রথমে তাকে দেহ ব্যবসায় রাজি করাতে না পেরে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে জ্বলন্ত সিগারেটের ছেঁকা দেয়াসহ নেশা জাতীয় দ্রব্য ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে পুষ করা হয়।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, উলে¬খিত ঘটনায় শনিবার বিকেলে ওই গৃহবধূর মা ময়না বেগম বাদি হয়ে আনোয়ার মিয়াসহ আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
No comments:
Post a Comment