অনেকেই ভেবে থাকেন বাস্তবে কী এর অস্তিত্ব আছে, যদি থেকেও থাকে তবে কী ভাবে সেটা আয়ত্ত করা যায়, এ বিদ্যা শিখে কী কী লাভ হয়, এর প্রয়োগে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কী না?
প্রথমে লাভের কথা ধরা যাক। লাভ অপরিসীম। কতটা, তা এখনও সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এটি একটি অতি প্রাচীন বিদ্যা হলেও একে বহুদিন মানুষ অবহেলা বা ভয়ের চোখে দেখে এসেছে। বর্তমানে হাজার হাজার গবেষক কাজ করছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বহুমুখী ফলপ্রদ প্রয়োগ আবিষ্কারের জন্য। সম্মোহনের হালকা বা মাঝারি স্তরের কৌশল আয়ত্ত করতে পারলেই এই বিদ্যা প্রয়োগ করে আপনি গভীর উদ্বেগ, উত্তেজনা, যৌন অনীহা বা অক্ষমতা, অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান এবং তোতলামিসহ অনেক সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
গভীর বা সোমনামবিউলিস্টিক স্তরে পৌছুতে পারলে প্রচণ্ড দাঁতের ব্যথা, অস্ত্রোপচারের বেদনা, এমন কি গর্ভযাতনা থেকেও নিষ্কৃতি পেতে পারেন।
এছাড়া অপর কোনো ব্যক্তিকে ‘সাজেশন’ দিয়ে আপনি আড়ষ্ঠ করে দিতে পারবেন। এবং অন্যকে সাময়িক সময় নিজের বশে রাখতে পারবেন। অনেকে বলে থাকেন, ভারতীয় উপমহাদেশের সাধু-সন্ন্যাসীরা এই বিদ্যা আয়ত্ত করে তাদের ভক্তদের মোহিত করে রাখতেন। যাকে সাধারণ মানুষ ‘মন্ত্র-তন্ত্র’ বলে বিশ্বাস করতো।
১৮৪০ সালে জেমস এসডেইল বলে এক ব্রিটিশ সার্জেন ভারতে তিন হাজার রোগীকে অপারেশন করেছিলেন সম্মোহনের সাহায্যে অঙ্গ অসাড় করে দিয়ে। কিন্তু এর তেমন প্রসার হয়নি। কারণ এর কিছুদিনের মধ্যেই আবিষ্কার হয়ে গেল ক্লোরোফর্ম এবং ইথার দিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করার পদ্ধতি।
সম্মোহন বিদ্যার বই বাংলাদেশে খুবই বিরল। দু একজন ইংরেজি লেখকের বইতে এর কৌশল রপ্ত করার পূর্নাঙ্গ পদ্ধতি দেয়া আছে।
এই প্রতিবেদনে ‘ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম’ এর পাঠকদের জন্য সম্মোহন কী তা বিশ্লেষণ করা হল। পরবর্তীতে এর কৌশল আয়ত্ত করার পদ্ধতি বর্ণনা করা হবে।
পর্ব ১. একজন সম্মোহনকারী(Hypnotist) যখন অপর কাউকে সম্মোহন করেন, তখন সেটাকে বলা হয় hetero hypnosis, বা পর-সম্মোহন। কিন্তু সম্মোহনকারী যখন নিজেই নিজেকে সম্মোহন করেন, তখন তাকে auto বা self hypnosis বা আত্মসম্মোহন বলে।
আত্মসম্মোহন হচ্ছে, সংক্ষেপে বলতে গেলে এমন একটা বিদ্যা যার মাধ্যমে আপনি আপনার মহাশক্তিশালী অবচেতন মনকে নিজের ইচ্ছেমত বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারেন। চেতন ও অবচেতন মনের যোগ-সাধনা করা এবং চেতন মনের আদেশ বা নির্দেশ অবচেতন মনে পৌঁছে দেয়ার সবচেয়ে সহজ পন্থা হচ্ছে আত্মসম্মোহন। এর তিনটি স্তর আছে-হালকা বা lethargic স্তর, মাঝারি বা cataleptic স্তর ও গভীর বা somnambulistic স্তর।
অবেচতন মন: প্রায় সবারই জানা, ভেতরের মন বলে একটা জিনিস রয়েছে সবার মধ্যে, নানান জনে নানান নামে ডাকে এটাকে-অবচেতন, অচেতন, সবাজেকটিভ, সাবলিমিনাল, ইউ-কত কী। আমারা এটাকে অবচেতন মনই বলব।
সম্মোহিত অবস্থায় সাজেশন দিয়ে রক্ত চলাচল, হার্টবিট ও শরীরের জ্বর কমানো যায় খুব সহজে, জখম সারিয়ে তোলা যায় খুব দ্রুত।রাশিয়ান মনস্তত্ববিদ কে. প্ল্যাটোনভের ‘সাইকোলজি অ্যায উই মে লাইক ইট’ বইয়ের ৩৫ পৃষ্ঠায় একটা হাতের ফটোগ্রাফ রয়েছে-হাতের ওপর একটা ফোস্কা। সম্মোহিত অবস্থায় এই হাতের ওপর একটা ঠাণ্ডা ধাতুর মুদ্রা ঠেসে ধরে শুধু বলা হয়েছিল ওটা প্রচণ্ড গরম, সাথে সাথেই ফোস্কা উঠেছিল জায়গাটায়।
এটাই হচ্ছে সম্মোহন। অবচেতন মনকে নিজের ‘সাজেশন’ বা নির্দেশ মতো অনুভব করানো।
পাঠক, এখানে শুধু সম্মোহনের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা হল। পরবর্তীতে কৌশল রপ্ত করার পূর্নাঙ্গ পদ্ধতি আলোচনা করা হবে।
No comments:
Post a Comment