২৭ রোজার পর থেকেই ঈদের আনন্দ শুরু হয়। এই আনন্দ শুরু হওয়া নতুন কিছু
নয়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বছরে দুটি ঈদ উদযাপন। সবচেয়ে ভালো
লাগে যখন দেখি গাড়ি ভরে ভরে মানুষ তার নিজের বাড়িতে ফিরছে নিজেদের শিকড়ের
টানে।
আমি গ্রামে থাকি। শহরের মানুষগুলো হুমরি খেয়ে গ্রামে আসার জন্য পাগল হয় আর গ্রামের মানুষ তাদেরই অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকে। রাস্তায়, বাসে, অলিতে গলিতে মানুষ আর মানুষ। সবার মধ্যেই ছুটোছুটি ভাব। একটি করে গাড়ি আসে আর ধুলো উড়ে যায় রাস্তায়। গরম আর ধুলো্য় অন্ধকার চারিদিক। কিন্তু তারপরও এই ভীড় ঠেলে যেন অপেক্ষার অবসান হয় তখনই যখন তার কাঙ্খিত মানুষটির দেখা পাওয়া। কারো ছেলে বা মেয়ে, কারো স্বামী হয়ত কারো পছন্দের মানুষের জন্যই এই সুদৃঢ় সুন্দর অপেক্ষা।
কিন্তু সবচেয়ে বড় উৎসব আর সবচেয়ে পবিত্র দিন আমাদের সাধারন মানুষের মনে আনন্দ দিলেও বা পরিশুদ্ধ হওয়ার উপলক্ষ এনে দিলেও কিছু কিছু বাধা উপেক্ষা করে আমরা এই কাজগুলো করার দৃঢ়তা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলি। যারা বাড়ি ফিরে আসছেন তাদের চাওয়াতো এতটুকুই যে বছরে অন্তত একবার প্রিয়মুখগুলোর সান্নিধ্যে যাবো আর আবার ফিরে এসে তাদের জণ্যই ঘামঝরা পরিশ্রম করবো। এই ঘামঝরা পরিশ্রম জীবিকার জন্য আর ঈদে বাড়ি যাওয়া জীবিকা অর্জনের পর সেটি দিয়ে প্রিয় আত্মীয় মানুষগুলোর হাসিমুখ দর্শন করা। এই স্বাভাবিক চাওয়াগুলোও আমাদের মত গণতান্ত্রিক দেশেও অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল।
গতবছর পর্যন্ত বেতন বোনাস সময় মত না পাওয়া, ঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আর বাড়ি যাওয়ার জন্য গ্লানিকর যার্নিই ছিলো সবচেয়ে বড় ভোগান্তি। যেখানে প্রতিনিয়ত আপনার চলার জন্য টাকা প্রয়োজন সেখানে সবচেয়ে বড় আনন্দের সময় আপনার বেতন আটকিয়ে দিয়ে মালিকেরা আপনার সব আনন্দও বিনষ্ট করার মত ক্ষমতা রাখে। বসুন্ধরা সিটির মত বড় বড় বিপনী বিতানগুলো সব হিন্দি সিরিয়ালে নায়ক নায়িকাদের ড্রেস দিয়ে সমাদ্রিত তথাকথিত মালিক পক্ষের ছেলে মেয়েদেরপছন্দের যোগাড় দেওয়ার দেওয়ার জন্য। অথচ শ্রমিক পক্ষের মানুষের অবস্থা এমনই যে হয়ত অসুস্থ বাবা একটি লুঙ্গি কেনার জন্য টাকা চেয়ে পাঠিয়েছে অথবা মা একটি শাড়ি কেনার জন্য ছেলের কাছে আকুতি জানিয়েছে সেটাতেও অপারগতা। এই না দিতে পারার অনুভূতি লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। বাবা মা বা প্রিয় মুখগুলোর অপেক্ষা আর সন্তানের অপারগতার মধ্য দিয়েই যাদের ঈদ আনন্দ তাদের এবার বোধহয় প্রিয়মুখ দেখার স্বাদটুকুও মিটবে না। ঈদের দুদিন পরই আমাদের দেশের গর্বিত রাজনৈতিক দলের একাংশের হরতাল! অনেকেই হাজারো ইচ্ছা থাকার পরও একবার যেতে পারবে না তার অপেক্ষারত প্রিয় মানুষটির কাছে। আমরা দেখবো কত মানুষ ঈদের দিন গণভবন, হাওয়াভবনসহ আরো কত ভবনে রাজনৈতিক কত ঈদ পূর্নরমীলনী, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, অথবা ঈদ ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। কিন্তু এই মানুষগুলো, যাদের বাবা মা চোখে ছানি নিয়ে ছল ছল ভাবে পথপানে চেয়ে আছে সন্তানটির জন্য! জানেন এদের জীবনে কোন শুভেচ্ছা বিনিময়ের দরকার নেই। সারা মাস কষ্ট করে রোজা রেখে হারহাড্ডি শুকিয়ে গেছে তাও এতটুকু কম পরিশ্রম করেনি কারন যদি মালিক বলে যে তোর কারনে প্রোডাকশন কম হয়েছে তোকে আর টাকা দেবো না। সেই টাকা সে পাবে না আর পেলেও রাজনৈতিক কারনে বাড়ি যেতে পারবে না আর গেলেও তার ছোট্ট ঘরটুকুর নিরাপত্তার জন্য বুকের ভেতর গুড়ররর…..করে ডাক দিয়ে উঠবে!
এ কেমন গণতন্ত্র আমাদের?
শুভেচ্ছা বিনিময় আর যাকাতের টাকা দিয়েই যারা মনে করছেন আমার দায়িত্ব শেষ তারা ভেবেছেন যে আপনাদের কিছু কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারনেই মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। একবার খুব সাধারন মানুষ হয়ে চিন্তা করুন কিরকম কষ্ট করে মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। আর জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যেই হচ্ছে আনন্দের সময় আনন্দ করা কাছের মানুষকে নিয়ে।
চারিদিকে বাড়ি ফেরা মানুষের চরম হাহাকার। কারন হরতাল হবে ঈদের দুদিন পরেই। যারা আজ ঈসলাম ভিত্তিক রাজনীতিবিদ বলে নিজেদের পরিচয় দেন তাদের কি একটুও ভাববার বিষয় নেই যে ইসলাম মানুষের কষ্টকে সমর্থন করে না। আসলে ভাববার বিষয়ের ক্ষেত্রেও আমাদের রাজনীতি ঢুকে গেছে। যদি তাই না হবে তবে গণতান্ত্রিক দেশে কোনো কাঠামো ঠিক না করে বা আইন না করে একটি রাজনৈতিক দলকে কেনই বা নিষিদ্ধের কথা চলে আসে অনায়াসে। এই নিষিদ্ধে যে জনসাধারন ভুক্তভোগী তা বুঝতে পারাই বা পারেনা কেন? বারবার বলা হলেও যে আলোচনার কোন বিকল্প নেই কিন্তু কেউ কি কথা রাখলো? কেউ রাখেনি।
তারপরও ঈদ চলে এসেছে। মহিমান্বিত রাতে দেশের ভালো হওয়ার জন্য অনেক দোয়া করেছি। কিন্তু ভুলে এই দোয়া করিনি যে, হে বিধাতা যারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য রাজনীতি করে তাদের ঈমান দাও। ঈদে আনন্দ করতে ইচ্ছে করছে অনেক। কিন্তু থেমে যাচ্ছি ঐসব অসহায় মানুষদের কথা ভেবে। তারপরও আনন্দ করবোই কারণ থেমে থাকলেই রাজনীতিবিদ নামক দেশচালকরা ভাববে আমরা তাদের বলির পাঠা। তাই কি আর হয়, আমরা সাধারণ জনগণ, যারা গণতন্ত্রে এমনই অংশ যাদের দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, যাদের জন্য রাষ্ট্র পরিচালিত হয়….গণতন্ত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী। আমরাও তো সেই জনগণই!
ঈদের আনন্দ সবার মধ্যে বয়ে আনুক অফুরন্ত ভালোবাসা আর সুখের ছোয়া । সবাইকে ঈদ মোবারক।
আমি গ্রামে থাকি। শহরের মানুষগুলো হুমরি খেয়ে গ্রামে আসার জন্য পাগল হয় আর গ্রামের মানুষ তাদেরই অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকে। রাস্তায়, বাসে, অলিতে গলিতে মানুষ আর মানুষ। সবার মধ্যেই ছুটোছুটি ভাব। একটি করে গাড়ি আসে আর ধুলো উড়ে যায় রাস্তায়। গরম আর ধুলো্য় অন্ধকার চারিদিক। কিন্তু তারপরও এই ভীড় ঠেলে যেন অপেক্ষার অবসান হয় তখনই যখন তার কাঙ্খিত মানুষটির দেখা পাওয়া। কারো ছেলে বা মেয়ে, কারো স্বামী হয়ত কারো পছন্দের মানুষের জন্যই এই সুদৃঢ় সুন্দর অপেক্ষা।
কিন্তু সবচেয়ে বড় উৎসব আর সবচেয়ে পবিত্র দিন আমাদের সাধারন মানুষের মনে আনন্দ দিলেও বা পরিশুদ্ধ হওয়ার উপলক্ষ এনে দিলেও কিছু কিছু বাধা উপেক্ষা করে আমরা এই কাজগুলো করার দৃঢ়তা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলি। যারা বাড়ি ফিরে আসছেন তাদের চাওয়াতো এতটুকুই যে বছরে অন্তত একবার প্রিয়মুখগুলোর সান্নিধ্যে যাবো আর আবার ফিরে এসে তাদের জণ্যই ঘামঝরা পরিশ্রম করবো। এই ঘামঝরা পরিশ্রম জীবিকার জন্য আর ঈদে বাড়ি যাওয়া জীবিকা অর্জনের পর সেটি দিয়ে প্রিয় আত্মীয় মানুষগুলোর হাসিমুখ দর্শন করা। এই স্বাভাবিক চাওয়াগুলোও আমাদের মত গণতান্ত্রিক দেশেও অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল।
গতবছর পর্যন্ত বেতন বোনাস সময় মত না পাওয়া, ঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আর বাড়ি যাওয়ার জন্য গ্লানিকর যার্নিই ছিলো সবচেয়ে বড় ভোগান্তি। যেখানে প্রতিনিয়ত আপনার চলার জন্য টাকা প্রয়োজন সেখানে সবচেয়ে বড় আনন্দের সময় আপনার বেতন আটকিয়ে দিয়ে মালিকেরা আপনার সব আনন্দও বিনষ্ট করার মত ক্ষমতা রাখে। বসুন্ধরা সিটির মত বড় বড় বিপনী বিতানগুলো সব হিন্দি সিরিয়ালে নায়ক নায়িকাদের ড্রেস দিয়ে সমাদ্রিত তথাকথিত মালিক পক্ষের ছেলে মেয়েদেরপছন্দের যোগাড় দেওয়ার দেওয়ার জন্য। অথচ শ্রমিক পক্ষের মানুষের অবস্থা এমনই যে হয়ত অসুস্থ বাবা একটি লুঙ্গি কেনার জন্য টাকা চেয়ে পাঠিয়েছে অথবা মা একটি শাড়ি কেনার জন্য ছেলের কাছে আকুতি জানিয়েছে সেটাতেও অপারগতা। এই না দিতে পারার অনুভূতি লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। বাবা মা বা প্রিয় মুখগুলোর অপেক্ষা আর সন্তানের অপারগতার মধ্য দিয়েই যাদের ঈদ আনন্দ তাদের এবার বোধহয় প্রিয়মুখ দেখার স্বাদটুকুও মিটবে না। ঈদের দুদিন পরই আমাদের দেশের গর্বিত রাজনৈতিক দলের একাংশের হরতাল! অনেকেই হাজারো ইচ্ছা থাকার পরও একবার যেতে পারবে না তার অপেক্ষারত প্রিয় মানুষটির কাছে। আমরা দেখবো কত মানুষ ঈদের দিন গণভবন, হাওয়াভবনসহ আরো কত ভবনে রাজনৈতিক কত ঈদ পূর্নরমীলনী, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, অথবা ঈদ ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। কিন্তু এই মানুষগুলো, যাদের বাবা মা চোখে ছানি নিয়ে ছল ছল ভাবে পথপানে চেয়ে আছে সন্তানটির জন্য! জানেন এদের জীবনে কোন শুভেচ্ছা বিনিময়ের দরকার নেই। সারা মাস কষ্ট করে রোজা রেখে হারহাড্ডি শুকিয়ে গেছে তাও এতটুকু কম পরিশ্রম করেনি কারন যদি মালিক বলে যে তোর কারনে প্রোডাকশন কম হয়েছে তোকে আর টাকা দেবো না। সেই টাকা সে পাবে না আর পেলেও রাজনৈতিক কারনে বাড়ি যেতে পারবে না আর গেলেও তার ছোট্ট ঘরটুকুর নিরাপত্তার জন্য বুকের ভেতর গুড়ররর…..করে ডাক দিয়ে উঠবে!
এ কেমন গণতন্ত্র আমাদের?
শুভেচ্ছা বিনিময় আর যাকাতের টাকা দিয়েই যারা মনে করছেন আমার দায়িত্ব শেষ তারা ভেবেছেন যে আপনাদের কিছু কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারনেই মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। একবার খুব সাধারন মানুষ হয়ে চিন্তা করুন কিরকম কষ্ট করে মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। আর জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যেই হচ্ছে আনন্দের সময় আনন্দ করা কাছের মানুষকে নিয়ে।
চারিদিকে বাড়ি ফেরা মানুষের চরম হাহাকার। কারন হরতাল হবে ঈদের দুদিন পরেই। যারা আজ ঈসলাম ভিত্তিক রাজনীতিবিদ বলে নিজেদের পরিচয় দেন তাদের কি একটুও ভাববার বিষয় নেই যে ইসলাম মানুষের কষ্টকে সমর্থন করে না। আসলে ভাববার বিষয়ের ক্ষেত্রেও আমাদের রাজনীতি ঢুকে গেছে। যদি তাই না হবে তবে গণতান্ত্রিক দেশে কোনো কাঠামো ঠিক না করে বা আইন না করে একটি রাজনৈতিক দলকে কেনই বা নিষিদ্ধের কথা চলে আসে অনায়াসে। এই নিষিদ্ধে যে জনসাধারন ভুক্তভোগী তা বুঝতে পারাই বা পারেনা কেন? বারবার বলা হলেও যে আলোচনার কোন বিকল্প নেই কিন্তু কেউ কি কথা রাখলো? কেউ রাখেনি।
তারপরও ঈদ চলে এসেছে। মহিমান্বিত রাতে দেশের ভালো হওয়ার জন্য অনেক দোয়া করেছি। কিন্তু ভুলে এই দোয়া করিনি যে, হে বিধাতা যারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য রাজনীতি করে তাদের ঈমান দাও। ঈদে আনন্দ করতে ইচ্ছে করছে অনেক। কিন্তু থেমে যাচ্ছি ঐসব অসহায় মানুষদের কথা ভেবে। তারপরও আনন্দ করবোই কারণ থেমে থাকলেই রাজনীতিবিদ নামক দেশচালকরা ভাববে আমরা তাদের বলির পাঠা। তাই কি আর হয়, আমরা সাধারণ জনগণ, যারা গণতন্ত্রে এমনই অংশ যাদের দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, যাদের জন্য রাষ্ট্র পরিচালিত হয়….গণতন্ত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী। আমরাও তো সেই জনগণই!
ঈদের আনন্দ সবার মধ্যে বয়ে আনুক অফুরন্ত ভালোবাসা আর সুখের ছোয়া । সবাইকে ঈদ মোবারক।


No comments:
Post a Comment