অনুসন্ধানে জানা গেছে, রমজান মাস ঈদে রাজধানী ঢাকাতে প্রশাসন কঠোর থাকে। তাই পুরো রমজান মাস আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীদের মন্দা যায়। ঈদে ঢাকার হোটেল ও ভ্রাম্যমান পতিতারা অনেকে গ্রামে চলে যান। পতিতা সংকট ও ব্যবসার মন্দা কাটাতে ঢাকার নারী ব্যবসায়ীরাও কক্সবাজারের নারীর দালাল ও বার্মার নারী ব্যবসায়ী মাফিয়াদের সহযোগিতা নিচ্ছেন।
মিয়ানমারের এই মাফিয়াদের একজন এজেন্ট উ মং চিনুক বলেন, আমি আসল নাম না জানিয়ে বলছি। কারন এটা আমার জীবনের নিরাপত্তার সাথে জড়িত। প্রায় হাজারখানেক মেয়ে আনা হয়েছে। আমিও ১২০ জন এনেছি। সবাই পেশাদার পতিতা নয় কিছু নতুন গরিব মেয়েও আছে যাদেরকে চাকুরীর কথা বলে আানা হয়েছে।
ঢাকার সী কুইন, আকাশ হোটেল, মেট্রো রাজ হোটেলে আমি পাছিয়েছি ৫ জন করে ১৫ জনকে। সবার সাথে আমাদের লোক আছে। এদেশের এজেন্টরা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে সব ম্যানেজ আছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা উতপ্ত হওয়ায় আমরা টেনশান করছি।
ঈদের কারনে ইতোমধ্যে পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি। তবে ঈদের পর হরতালের কারনে ব্যবসায় মন্দার আশঙ্গা দেখা দিয়েছে। এ মন্দা কাটাতে এই নতুন আমদানী করা ললনারা ভূমিকা রাখবে বলে আবাসিক হোটেলের নারীর দালালরা আশা করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও একের পর এক হরতাল-অবরোধের কারণে ধ্বস নেমেছিল কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসার। পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কোটি কোটি টাকার। পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসায়ীদের এই ঈদে মন্দা কাটাতে তাই কোন নৈতিকতা বা আইননের তোয়াক্কা করছেনর না। গুজব আছে আইন প্রয়োগকারী কিছু সংস্থার বড় কর্মকর্তারা এতে মৌন সম্মতি দিয়েছেন।
কক্সবাজারের এক হোটেল ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশ কেোর শর্তে বলেন, আমাদের হোটেলে নারীদেহ ব্যবসায় কোন সমস্যা নেই। তবে বিদেশী পতিতা সংখ্যায় কম আসে। এবার একবারে কয়েক হাজার এসেছে। রোহিঙ্গা সমস্যা, রাজনৈতিক অবস্থা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বড় আয়োজন করেছি।
তিনি আরও জানান, ঈদের দিন রাতে নগ্ন পার্টি হবে। তবে তা খুবই গোপনে। আর ঢাকার কিছু হোটেলেরও সাপ্লাই দিয়ে তারা কমিশন নেবেন। বনানী ও মহাখালির কয়েকটি হোটেল ইতোমধ্যে ৫০ জনকে নিয়ে গেছে। সিজন শেষে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে।
সরজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পর সমুদ্র সৈকত এলাকা, দশর্নীয় পর্যটন স্পট, বার্মিজ মার্কেটসহ পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ফিরে পেয়েছে ক্ষনিকের জন্য হারিয়ে যাওয়া নিজস্ব জৌলুস। শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, পর্যটকদের কোলাহল গিয়ে পৌঁছেছে হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, সোনাদিয়া, আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কসহ জেলার বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও দশর্নীয় পর্যটন স্পটগুলোতে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন বর্তমানের মত যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তাহলে হয়তো পর্যটক আসবে কক্সবাজারে, আর ব্যবসায়ীরা পুষিয়ে উঠতে পারবে নিজেদের লোকসানগুলো।
কক্সবাজার সৈকত ঝিনুক মার্কেট সমিতির সভাপতি কাশেম আলী হাসোজ্জ্বল মুখে বলেন, এই সিজনে আমরা আশাবাদি। হরতাল না থাকলে ভালেঅ হতো।আশানুরূপের চেয়ে কম হলেও দীর্ঘদিন পরে সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের মুখ দেখে আনন্দ লাগছে। আশা করি যদি সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা সহনশীল হয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে তাহলে আমাদের আনন্দটা আরো বেড়ে যাবে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, আমরা চিন্তিত ঈদের পরের হরতাল নিয়ে। কোটি কোটি টাকার লোকসানের পর কিছুটা পর্যটকের দেখা মিলেছে চলতি সপ্তাহে। তবে আশার চেয়ে কম হলেও আনন্দ লাগছে।
ট্যুরিষ্ট পুলিশের ওসি জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়ে পর্যটকরা যাতে কোন হয়রানির শিকার না হয় বা চুরি-ছিনতাইসহ যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রেখেই কাজ করছে পুলিশ। পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি মহিলা পুলিশরাও সদা সর্বত্র সেবা দিয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের।
মিয়ানমারের পতিতাদের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
No comments:
Post a Comment